মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার মিয়ানমার সফরে আসছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদন...
মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার মিয়ানমার সফরে আসছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে তীব্র ধর্মীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠেয় তার এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রোম থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পোপ। আজ সোমবার তার মিয়ানমারে পৌঁছানোর কথা। সেখানে দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্ট অং সান সু চি ও সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তার।
গত ২৫ আগস্ট রাখােইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযুজ্ঞ চালানো শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিসগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি একে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও।
এমন সময়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের কারণে পোপ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন বলে ভাবা হচ্ছে। তবে মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে পোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারের কার্ডিনাল চার্লস মং বো।
রোহিঙ্গা সংকটের তীব্রতার মধ্যে এই সফর হওয়াতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি কি বলেন সেই বিষয়টি। তবে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর আপত্তি থাকায় কার্ডিনাল চার্লস মং বো পোপকে তা উচ্চারণ করতে মানা করেছেন।
আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় তাদের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। বলেছিলেন, ঈশ্বরের কাছে আমরা সবাই প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের সুরক্ষিত রাখেন। তাদের সাহায্যে বাকিদের এগিয়ে আসতে বলেন; যারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।

COMMENTS