তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মানবিক সংকট নিয়ে রাজনীতি করে না। এটা মনে রাখতে হবে- রোহিঙ্গা সমস্যা, অন্যের সমস্যা। আম...
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মানবিক সংকট নিয়ে রাজনীতি করে না। এটা মনে রাখতে হবে- রোহিঙ্গা সমস্যা, অন্যের সমস্যা।
আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে।’ সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী সরকারকে ঘায়েল করার চক্রান্তের জাল বোনার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাম্প্রদায়িকতার জিকির তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ খুঁজছেন।’
মন্ত্রী বলেন, গত তিন সপ্তাহে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমারের এ সমস্যা নতুন নয়। সামরিক জান্তার জাতিগত নিপীড়নের এক কলঙ্কজনক ইতিহাস এই হত্যাযজ্ঞ। ‘৭৮ সালের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছিল। তখন সংখ্যা ছিল দুই লাখ। ‘৯২ সালে আসছে দুই লাখ ৭০ হাজার। এদের মধ্যে স্বদেশে ফেরত গেছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন। কিন্তু ৩৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা তখন দেশে রয়ে যায়। এদেরকে ফেরত পাঠাতে পারিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ মুহূর্তে নতুন পুরাতন মিলিয়ে আট লাখ রোহিঙ্গা দেশে অবস্থান করছে। এ সমস্যাটি সরকার তিনটি পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান করছে।’
ইনু বলেন, ‘প্রথমটি মানবিক পদক্ষেপ। সবার উপরে মানবতা। এই মন্ত্রে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় পদক্ষেপ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। মিয়ারমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক কার্যক্রম সরকার হাতে নিয়েছে। যা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের অংশ। তৃতীয়টি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজে উখিয়ার কুতুপালং এ গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, ত্রাণ দিয়েছেন এবং বলেছেন, অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে বাংলাদেশ থাকবে। প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন।’
রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনও রাজনৈতিক উসকানি এবং দেশের ভেতরে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার ছিলেন।

COMMENTS