তৃণমূল পর্যন্ত ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা পর্যায়ে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হলেও তা কাজে আসেনি। চার মাস আগে ল্য...
তৃণমূল পর্যন্ত ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা পর্যায়ে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হলেও তা কাজে আসেনি।
চার মাস আগে ল্যাপটপ দেওয়া হলেও বেশিরভাগ জেলায় তা চালু করা হয়নি। অনেক জেলায় ল্যাপটপ অফিসে না নিয়ে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকদের বাসায় রেখে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় চালু হলেও সেগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়নি। বেশ কয়েকটি জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সংগঠনের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে জেলা আওয়ামী লীগকে চার মাস আগে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। গত ২০ মে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভায় প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সৌজন্যে এই ল্যাপটপগুলো দেওয়া হয়। বিতরণকালে শেখ হাসিনা এগুলো নিয়মিত ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো ঘরে ফেলে রাখার জন্য নয়, দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।’ ওই সময় দলের সবাইকে ল্যাপটপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেওয়ারও নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ডিজিটাল হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এককভাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মোটামুটি ডিজিটাল হলেও পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম ‘এনালগ’ পদ্ধতিতেই চলছে। অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যলয়ে কোনও ই-মেইল আইডি নেই। ফলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয় অথবা কুরিয়ার সার্ভিসই তাদের ভরসা। এসব বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ করতেই জেলা অফিসগুলোকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ জেলাগুলোতে ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে জেলা নেতারা তাদের নিজস্ব অফিস না থাকা আর অফিস থাকলেও নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছে। কয়েকটি জেলায় ল্যাপটপ মাঝেমধ্যে চালু করা হলেও তাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই। হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় সাংগঠনিক কাজে ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ল্যাপটপ এখনও ব্যবহার করেনি নাটোর জেলা আওয়ামী। জেলা অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না থাকায় তারা অফিসে রেখে ল্যাপটপটি ব্যবহার করতে পারছে না। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা সভানেত্রীর কাছ থেকে ল্যাপটপ গ্রহণ করেছি। কিন্তু অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় চুরির আশঙ্কায় ল্যাপটপটি এখনও চালু করা হয়নি।’

COMMENTS