মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সমা...
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অমনোযোগী বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। আমি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলেন চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা খালেদা জিয়া।
বেগম জিয়া তার বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় সে দেশের রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে অসংখ্য মানুষ হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এটির নিন্দা জানাচ্ছি।’
‘রোহিঙ্গারা বসতবাড়ি, সহায় সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ্বলছে। প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, গহীন অরণ্যে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অবিরাম গুলিবর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ তৈরি করেছে তা বর্ণনাতীত। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত রোহিঙ্গা যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছে তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এবং কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মায়ানমার এলাকায় রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তীরে বসে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুনছে। এ দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।’
‘সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ ও মায়ানমার নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ। আবহমানকাল ধরে দু’দেশের সম্পর্ক সমমর্যাদায় অভিষিক্ত। আমি বিশ্বাস করি সমমর্যাদার এ ঐতিহ্যকে সম্মান দেখিয়ে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে’, যোগ করেন খালেদা জিয়া।
এ সমস্য মিয়ানমার সরকারের দ্রুত অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগতভাবে অবনতিশীল হতে থাকবে এবং এতে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সুসম্পর্কের আবহমানধারা যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে মায়ানমার সরকারকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের জরুরি অবসান ঘটাতে হবে। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হচ্ছে, ভূমিচ্যূত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিতে আসছে প্রধানত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশে।’

COMMENTS